West Bengal National Congress Worker Forum 

শিক্ষা আনে চেতনা, 

                    চেতনা আনে জাগরণ, 

                                          জাগরণ আনে বিপ্লব।

                                          _________________

এই কথাগুলো জানিনা বিগত ১১ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ও পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের মনে পরে কিনা আমি জানিনা। 


যদি আমাদের সকলের ছাত্র জীবনের এই কথাগুলো মনে থাকতো এবং আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজ যাঁরা আগামী দিনে আমাদের দেশের ভবিষ্যত। তারা যদি গনতন্ত্র রক্ষার এই মূল মন্ত্র ভুলে না গিয়ে থাকে তা হলে আজ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ সহ সমস্ত দেশ জুড়ে সাধারন মানুষের উপরে এতো অন্যায়, অবিচার, এতো  স্বজনপোষণের পরেও কোথায় হারিয়ে গেলেন  পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সচেতন প্রিয় মানুষজনেরা, কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজ। কেনো সমস্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এতো অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে, কেনো কোনো প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করা যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গের বুকে কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজের সেই প্রতিবাদ আন্দোলন, যা নাকি দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের গনতন্ত্রকে রক্ষা করা ও পশ্চিমবঙ্গের সাধারন মানুষের সার্বিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে একপ্রকার বাধ্য করত শাসকদল সহ রাজ্য সরকার কে। 


বিগত ১১ বছর ধরে বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত এই রাজ্য সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দুটি বিষয়ে দেখার মতো, একটি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসন কে কিভাবে নিরপেক্ষ প্রশাসকের আসন থেকে নামিয়ে দলদাসে পরিনত করা। 

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্তরের শিক্ষকদের দেশ গড়ার কারিগর বানানো ছেড়ে দিয়ে, দল গড়ার কারিগর হিসেবে তৃণমূল দলের হয়ে মিটিং মিছিল পরিচালনার কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র সমাজ কে সঠিক শিক্ষা গ্রহণের মধ্যে দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে আগামী দিনে দেশ গড়ার কারিগর না বানিয়ে, বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় গুলো থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের তোলাবাজির কারিগর বানানো সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা চলছে। এক কথায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থা কে চুরান্ত অব্যাবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বিগত ১১ বছর ধরে এই তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের সময় কালে। 


আর পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত যুবসমাজের বিগত ১১ বছর ধরে কোনো সঠিক কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে, কোনো সঠিক ব্যবসার সুযোগ ও সহযোগিতা এই সরকারের পক্ষ থেকে না পেয়ে আজ আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের যুবকেরা প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তার একটাই কারন বর্তমানে এই তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার খুব পরিকল্পনা মাফিক শিক্ষিত যুবসমাজের মেরুদণ্ড কে ভেঙে দিয়েছে রাজ্য জুড়ে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটিয়ে। আজ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত যুবসমাজ কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেয়ে আজ ধুঁকছে, তাদের মেরুদণ্ড আজ এই তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার পরিকল্পিত ভাবে ভেঙে দিয়েছে বেকারত্বের জ্বালায় প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। 

সেই সুযোগ দলীয় তোলাবাজ ও সিন্ডিকেট রাজদের দাপাদাপি রাজ্য জুড়ে বেরে চলেছে, এর ফলে রাজ্য জুড়ে সমাজবিরোধীদের কাজকর্ম যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি নেশার ব্যবসা সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের বেআইনি ব্যবসার রমরমা। আর পুলিশ প্রশাসনকে দলদাসে পরিনত করবার সুবাদে পুলিশ প্রশাসন এই সমস্ত বিষয়ে নির্বিকার হবার কারনে এই সমস্ত দলীয় সমাজসেবক ও সমাজ বিরোধীদের বর্তমান এই সরকারের আমলে রাজ্য জুড়ে রমরমা ব্যবসা চলছে। আর এই ব্যবসার মোটা মুনাফার ভাগ সবাই কমবেশি খাবার কারনে বিরোধী দলগুলো এই বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করছে না। 


মাঝেমধ্যে যখন কোনো শিক্ষিত যুবক এই সমস্ত সমাজ বিরোধীদের প্রতিবাদ করছে তখন কাউকে পাশে পাচ্ছে না , পুলিশ প্রশাসন দূরের কথা। এই সমস্ত অন্যায় ও অবিচার এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে যদি আমরা এখনো  পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ও পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র ও যুব সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত না করতে পারি তাহলে আমাদের রাজ্যের আগামী প্রজন্মের ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত কে আমরাই আমাদের নিজের হাতে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে যাব। 


এমতাবস্থায় আমাদের রাজ্যের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত ছাত্র সমাজ ও যুবসমাজের ভবিষ্যত্ সুনির্দিষ্ট করতে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই প্রতিবাদ আন্দোলন কর্মসূচি সুসংগঠিত ভাবে গড়ে তুলবার জন্য আমাদের সংগঠনের পাশে থাকবার জন্য আপনাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। 


Comments

Popular posts from this blog

----------------------সামাজিক গ্রহণ------------------

শপথ গ্রহণের দিন